Blog

৭টি ভিন্ন উপায়ে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করুন

make money using mobile 7 ways

সময়ের সাথে সাথে আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি প্রতি নিয়তই আরো উন্নত হচ্ছে। এর সাথে সাথে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সকল কিছুই এখন স্মার্টফোনের উপর নির্ভর করছে। যার ফলে প্রতিদিনই আমাদের দিনের অনেকটা সময় কাটছে আমাদের স্মার্টফোনের সাথে। তাই আমাদের মধ্যে অনেকেই জানতে ইচ্ছুক স্মার্টফোন দিয়েই কি কোন ভাবে প্যাসিভ ইনকাম অথবা ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব? এর উত্তর খুঁজতে আমরা যদি ইউটিউবে মোবাইল দিয়ে ইনকাম লিখে সার্চ করি তবে অসংখ্য ভিডিও সামনে আসে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো কি আসলেই সত্যি? আজকের ব্লগে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো কিভাবে আপনি আপনার স্মার্টফোন দিয়েই যে সকল ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে ইনকাম করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং মূলত অনলাইন থেকে আয় করার একটি মাধ্যম। ফ্রিল্যান্সিং মূলত এমন একটি পেশা যেখানে আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এটি সাধারন চাকরির মতোই, কিন্তু ভিন্নতা হলো এখানে আপনি আপনার স্বাধীন মতো কাজ করতে পারবেন। একথায় বলতে গেলে, গতানুগতিক চাকুরীর বাইরে নিজের ইচ্ছামত কাজ করার স্বাধীনতা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। যেমনঃ কেউ ব্যবসা কে পেশা হিসেবে নেন তাঁরা হলেন ব্যবসায়ী, যারা চাকুরী করেন তাঁরা হলেন চাকুরীজিবী, আবার যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা হলেন মৎস্যজীবি, ঠিক তেমনি ফ্রিল্যান্সিং হল এক ধরনের পেশা। আর যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন তাদের বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। যাঁরা নিজের মেধা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করে আয় করে থাকেন। ফ্রিল্যান্সিং কে আবার স্বাধীন ভাবে কাজ করা বা মুক্ত পেশাও বলা হয়ে থাকে।

মোবাইল দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবেন?

আমাদের সবার ধারণা ফ্রিল্যান্সিং করতে ভাল মানের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর প্রয়োজন। আসলে ব্যপারটা সেই রকম না। অনেক কাজ রয়েছে যে কাজগুলা আপনি আপনার হাতে থাকা স্মার্ট মোবাইল ফোন দিয়ে করতে পারবেন যদি আপনার ইচ্ছা শক্তি থাকে এবং করা ইচ্ছা থাকে। চলুন এবার তেমনি কিছু কাজ সম্পর্কে জানা যাক যা আপনি মোবাইল দিয়ে করতে পারবেন।

১) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

কোন রকম ইনভেস্ট ছাড়া মোবাইল দিয়ে ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যেম হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়। যা আপনি আপনার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে খুব সহজে করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে আপনার পিসি বা ল্যাপটপ প্রয়োজন নেই। আপনি প্রতিদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ইউটিউব এই সকল জাগায় বিনোদন নিতে যে সময়টা ব্যয় করেন সেই সময়টা আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়ে থাকেন, তাহলে প্রতি মাসে আপনি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন মোবাইল দিয়ে। ফেসবুক, নিজের পার্সোনাল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, ইউটিউব সব জাগায় আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন অ্যাফিলিয়েট অন্য ব্যক্তির বা কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে দেওয়ার জন্য কমিশন উপার্জন করে। এখানে একটি প্রোডাক্টকে মার্কেটিং করে এবং তাদের প্রতিটি বিক্রয় থেকে লাভের একটি অংশ উপার্জন করে।

একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝাই, যেমন MSB Academy অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের ২০% করে কমিশন দিয়ে থাকে। অ্যাফিলিয়েটদের প্রোমোট করা কোর্সগুলো যখন শিক্ষার্থীরা ক্রয় করেন, তখন প্রতিটি কোর্সের বিক্রয়মূল্য থেকে ২০% কমিশন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার পেয়ে যায়! অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী কোনো অ্যাফিলিয়েটের মাধ্যমে ৩০০০ টাকার একটি কোর্স কিনলে সেই অ্যাফিলিয়েট পাবেন ৬০০ টাকা! আপনি একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করেও প্রতিদিন হাজার টাকার উপরে আয় করতে পারবেন। বর্তমানে প্রচুর বাংলাদেশী মার্কেটার MSB Academy Affiliate Program থেকে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকারও বেশি ইনকাম করছে।

নিচের ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখলে MSB Academy অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম সম্পর্কে কমপ্লিট একটা ধারণা পাবেন।

২) আর্টিকেল রাইটিং করে আয়

আপনার যদি লেখা লেখির প্রতি আগ্রহ থেকে থাকে তাহলে আপনি আর্টিকেল রাইটিং করে ইনকাম করতে পারবেন। আমরা যেহেতু মোবাইল দিয়ে চ্যাট করতে করতে পারি তাই আপনি চাইলে এটি দিয়ে আর্টিকেল রাইটিং সার্ভিসও দিতে পারবেন।

বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়তই ইন্টারনেটে নতুন নতুন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে এবং একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন আর্টিকেল। যার ফলে আপনার যদি লিখা লিখি করতে ভালো লাগে তবে আপনিও চাইলে আর্টিকেল রাইটিং করে আপনার অনলাইনে আয় শুরু করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসেগুলোতে প্রতিনিয়ত এই আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ বেড়েই চলেছে।

আর মজার বিষয় হচ্ছে আপনি চাইলে আপনার মোবাইল দিয়েই আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ শুরু করতে পারবেন। এখনতো ChatGPT ব্যাবহার করে খুব সহজেই আর্টিকেল লেখার কাজ করে ফেলা যায়। এছাড়া In-depth কোন ব্লগ বা আর্টিকেল ফাস্ট লিখতে চাইলে Jasper Ai, Copy Ai, Writersonic ব্যাবহার করতে পারেন।

৩) CPA মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়

সিপিএ মার্কেটিং যার ফুল ফর্ম হলো Cost Per Action। এটিও এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মতই একটি মার্কেটিং মাধ্যম। তবে সাধারণত এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর চেয়ে আয় কিছুটা কম হয়ে থাকে সিপিএ মার্কেটিং এ। অপরদিকে এটি তুলনামূলকভাবে সহজ যার ফলে এটি থেকে আয় করাও সহজ। সাধারণত কোম্পানি গুলো তাদের নির্দিষ্ট কাস্টমারের তথ্য জানার জন্য এই ধরনের মার্কেটিং করে থাকে। যেখানে তারা বিভিন্ন ধরনের ফ্রী অফারের বিনিময়ে কাস্টমারের মোবাইল নাম্বার, জিপ কোড, ইমেইল ইত্যাদি নিয়ে থাকে।

তবে সাধারণত কোম্পানিগুলোর কাছে সরাসরি কাস্টমারের কোন তথ্য থাকে না। যার ফলে তারা বিভিন্ন মাধ্যমগুলোতে এই কাজগুলো দিয়ে থাকে। যেখান থেকে সাধারণত সিপিএ মার্কেটারা কাজ নেয় এবং কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে কমিশন অর্জন করে। আপনার যদি ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে থাকেন তবে আপনিও চাইলে সিপিএ মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। ওয়ার্ল্ডের পপুলার কিছু CPA Network হচ্ছে MaxBountry, CrakRevenue, Advidi, AdWork Media ইত্যাদি।

৪) ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়

বর্তমান সময়ে এসে আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এর পাশাপাশি মোবাইল দিয়েই Active + প্যাসিভ ইনকাম ও করতে চান তাহলে আপনার জন্য বেস্ট অপশন হচ্ছে ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এই ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং কাজটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কিছু আপনি আপনার মোবাইল দিয়েই করতে পারবেন। আপনি যদি ইনস্টাগ্রাম ইতিপূর্বে ব্যবহার করে থাকেন তবে খেয়াল করলে দেখবেন এটি তৈরি করা হয়েছে মোবাইলে ব্যবহার করার জন্যই। যার ফলে এর প্রায় সকল ফিচার শুধুমাত্র মোবাইল দিয়ে সুন্দর ভাবে ব্যবহার করা যয়। তাই আপনি যদি ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর কাজ করতে চান তবে আপনাকে মোবাইল দিয়েই করতে হবে।

আসলে ইনস্টাগ্রাম মুলত একটি Photo and Video শেয়ারিং প্লাটফর্ম। যেখানে আপনি ইন্টারেস্টিং ছবি এবং শর্ট ভিডিও আপলোড করে আপনার ফলোয়ার গেইন করতে পারেন। বর্তমান সময়ে এসে ইনস্টাগ্রাম প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন কোম্পানি ও চাচ্ছে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যেতে ইনস্টাগ্রামে। ফলে প্রতিনিয়ত ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এক্সপার্টের চাহিদা বেড়েই চলছে। যাদের Instagram অ্যাকাউন্টে বেশি ফলোয়ার আছে তারা বিভিন্ন উপায়ে ইনকাম করে থাকে। আর তাই আপনি যদি একজন দক্ষ ইনস্টাগ্রাম মার্কেটার হতে পারেন তাহলে আপনি প্রতি মাসে মিনিমাম ৫০০-৫০০০ ডলার বা তার বেশিও ইনকাম করতে পারেন। ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর মাধ্যমে কি কি উপায়ে আপনি ইনকাম করতে পারেন চলুন জেনে নেয়া যাকঃ

# পন্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে আয়

ইনস্টাগ্রামে আপনি যদি কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে একাউন্ট তৈরি করে থাকেন এবং আপনার একাউন্টটি জনপ্রিয় হয়ে থাকে তবে আপনি ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ের বিভিন্ন ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে আয় করতে পারেন। সাধারণত এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং সম্ভব হলে ফ্রী স্যাম্পল পাঠিয়ে দিবে এবং নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে পণ্যের প্রচার করবে।

# সার্টআউট বিক্রি করে আয়

সার্টআউট বলতে বুঝায় আপনার কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের একাউন্ট থেকে একই বিষয়ের ছোট একাউন্ট গুলোকে নিয়ে আপনার একাউন্ট থেকে কোন রকম পোস্ট করা এবং আপনার ফলোয়ারদের সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। সাধারণত এই উপায়ে ছোট একাউন্ট গুলো নতুন অনেক ফলোয়ার পায় এবং অনেক দ্রুত গ্রো করে। এই মাধ্যমে আপনি চাইলে ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং শিখে প্রতি মাসে ভালো পরিমাণে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

# লিড জেনারেশন বিজনেস করে আয়

আপনি কি এর আগে লিড জেনারেশন বিজনেস এর কথা শুনেছেন? যদি না শুনে থাকেন তবে চিন্তার কোন কারন নেই। আমি বলছি বিস্তারিত। লিড জেনারেশন বিজনেস হলো এমন বিজনেস যেখানে আপনার নিজের কোন ব্যবসা থাকবে না। ধরুন কানাডার টরেন্টোতে কেউ একজন গাড়ি পরিষ্কার করতে চাচ্ছে এবং আপনার গাড়ি বিষয়ক একটি ইনস্টাগ্রাম পেইজ আছে সেখানে সে এসে আপনার কাছে জানতে চাইলো আপনার কি গাড়ি পরিষ্কার এর কোন সার্ভিস আছে? এক্ষেত্রে আপনি তাকে বলতে পারেন নেই অথবা এখান থেকেই শুরু করতে পারেন আপনার লিড জেনারেশন বিজনেস।

এক্ষেত্রে যাদের কানাডায় অলরেডি যাদের গাড়ি পরিষ্কারের ব্যবসা আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনি তাদের জানাতে পারেন আপনার কাছে তাদের কাঙ্ক্ষিত কাস্টমার আছে এবং আপনি তার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিবেন এবং এর জন্য কিছু কমিশন চার্জ করবেন। সাধারণত কোনো কোম্পানি এমন রেডি কাস্টমার ছাড়তে চায় না যার ফলে তারা প্রতি কাস্টমারের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট কমিশন দিয়ে থাকে এবং এভাবেই সাধারণত লিড জেনারেশন বিজনেসগুলো পরিচালিত হয়।

# অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে আয়

ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে আয়ের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে আয়। যেখানে আপনি আপনার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে এককালীন বড় অংকের অর্থ উপার্জন করতে পারেন। বর্তমানে বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যেগুলোতে আপনি আপনার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বিক্রির জন্য লিস্ট করে রাখতে পারেন এবং যখন কেউ কিনতে আগ্রহী হবে আপনার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তখন‌ তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনার কাঙ্খিত মূল্যে অ্যাকাউন্ট বিক্রি করতে পারেন। তাছাড়াও যখন একটি অ্যাকাউন্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠে তখন সেটা কেনার জন্য অনেকেই মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাই আপনি চাইলে এভাবে সরাসরি ও অ্যাকাউন্ট বিক্রি করতে পারেন।

৫) কাস্টমার সাপোর্টের কাজ করে আয়

মোবাইল ইনকাম করার আরও একটি সহজ কাজ হচ্ছে কাস্টমার সাপোর্ট এর কাজ। অনেক বড় বড় কোম্পানির কিন্তু সাপোর্ট এর জন্য মানুষের প্রয়োজন হয়। এখন কাস্টমার সাপোর্ট এর কাজের মধ্যে কিছু অনেক ধরনের কাজ রয়েছে। যেমন, কেউ হয়ত মোবাইল কথা বলার জন্য সাপোর্ট এর লোকের প্রয়োজন আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে কাস্টমারের সাথে চ্যাট করার জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হয়। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাস্টমার সাপোর্ট অথবা Customer Care Executive লিখে সার্চ দিলে এই কাজগুলা পেয়ে যাবেন।

এখন এই কাস্টমার সাপোর্ট এর কাজ করতে হলে আপনাকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলা জানতে হবে এবং আপনি যে কোম্পানির হয়ে কাজ করবেন সেই কোম্পানি এবং তাদের সার্ভিস বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালভাবে জানা লাগবে যেন কাস্টমার যা জিজ্ঞাস করবেন সেটার সঠিক উওর দিতে পারেন এবং কাস্টমারকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে পারেন। এই কাজটি কিন্তু সহজেই মোবাইল দিয়ে করেই ইনকাম করতে পারবেন।

৬) ট্রান্সলেট করে আয়

ট্রান্সলেট নামটা শুনেই হয়তো বুঝতে পারছেন এটি হচ্ছে একটি ভাষা থেকে আরেকটি ভাষায় রূপান্তর করা। এই কাজটি বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়তই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বেড়েই চলেছে। এর কারন হলো, এখন ইউটিউব এবং অন্যান্য মিডিয়ার জন্য যখন কেউ একটি ভিডিও নির্দিষ্ট ভাষায় তৈরি করে তখন শুধুমাত্র ঐ ভাষা জানে এমন মানুষই ঐ ভিডিওগুলো দেখে। যার ফলে এখন সবাই চায় তার ভিডিওটি অন্যান্য ভাষাতেও রুপান্তরিত করতে। যার ফলে এই ট্রান্সলেশন কাজের চাহিদা এখন অনেক বেশি।

তাই আপনি যদি একের অধিক ভাষা জানেন তবে আপনি চাইলেই খুব সহজেই এই ট্রান্সলেশনের কাজটি শুরু করতে পারেন। তাছাড়া এই কাজটি আপনি মোবাইল দিয়েই করতে পারবেন। Google Translate অ্যাপটি ব্যাবহার করে এই ধরণের কাজ আপনি সহজেই কমপ্লিট করতে পারেন।

৭) অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয়

আপনার হাতে থাকা ফোনটি যদি ভালো ছবি ক্যাপচার করতে সক্ষম হয় এবং আপনারও ফটোগ্রাফি সম্পর্কে ধারণা থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে মোবাইল দিয়ে তোলা ছবি বা ভিডিও বিক্রি করেও টাকা ইনকাম করতে পারেন। হতে পারে ফটোগ্রাফি আপনার শখ। এই শখকে কাজে লাগিয়ে আপনিও মোবাইল দিয়েই টাকা আয় করতে পারেন। ছবি বিক্রির জন্য অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে। মোবাইল ফটোগ্রাফি বিক্রির কিছুর জনপ্রিয় সাইট হল, শাটারস্টক, ফোপ, আইএম , স্ন্যাপওয়্যার এসব সাইটে স্টক ইমেজ ছাড়াও প্রায় সকল ধরনের ছবিই কেনাবেচা হয়। আপনি যে কোন ধরনের ছবি এই সাইডে বিক্রি করে আয় করতে পারবেন।

আসলে মোবাইল দিয়ে ইনকামের নানা ধরনের কাজ রয়েছে। কিন্তু আমার কাছে ব্যাক্তিগতভাবে মনে হয়েছে মোবাইল দিয়ে যদি সহজে এবং বিভিন্ন উপায়ে ইনকাম করতে চায় কেউ তাহলে তার জন্য বেস্ট হবে Instragram Marketing। কারণ Instagram মার্কেটিং এর সব কাজ আপনি মোবাইল দিয়েই করতে পারবেন। আর আপনি যদি একবার ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং ভালভাবে শিখতে পারেন তাহলে একাধিক উপায়ে ইনকাম করতে পারবেন।

আর এই সকল দিক বিবেচনা করে আমাদের MSB Academy তে পাবলিশ করা হয়েছে Instagram Marketing Masterclass নামে একটি কোর্স। আপনার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে যদি ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, প্রডাক্ট বা সার্ভিস সেল, CPA মার্কেটিং, অ্যাকাউন্ট বিক্রি ইত্যাদি আরও বিভিন্ন উপায়ে ইনকাম জেনারেট করতে চান তাহলে এই ইউনিক ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং কোর্সটি হবে আপনার জন্য পারফেক্ট একটি কোর্স।

আপনার যদি সত্যি ইনকাম করার ইচ্ছা থাকলে তাহলে আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোন দিয়েই নানন উপায়ে ইনকাম করতে পারেন। আপনি চাইলে ফেসবুকে পেইজ খুলে সেখানে নিজের তৈরি ভিডিও আপলোড করে ইনকাম করতে পারেন, তাছাড়া ইউটিউব থেকেও ইনকাম করতে পারবেন কারণ এখন মোবাইল দিয়ে সব ধরনের ভিডিও এডিটিং এর কাজও করা যায়। তার জন্য থাকতে হবে ইচ্ছা এবং সময় নিয়ে কাজ করার সংকল্প, সেই সাথে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখার আগ্রহ।

Leave a Reply