fbpx

ক্যারিয়ার হিসাবে ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরটি কেমন?

digital marketing career in bangladesh

ক্যারিয়ার হিসেবে মার্কেটিং জব বলতে আমরা সাধারনত অফ লাইনের বিজনেস বা দোকানে দোকানে গিয়ে কোম্পানির পণ্যের প্রচার এবং সেল করাকে বুঝে থাকি। সময় এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে মার্কেটিং এসেছে পরিবর্তন। এখন সব কিছু ডিজিটাল হওয়ার কারনের বড় প্রতিষ্ঠান গুলা তাদের পণ্যের বা সার্ভিসের মার্কেটিং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গুলাতে করে থাকে। সে দিক থেকে বলা যায় ক্যারিয়ার হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান সময়ের সময় উপযোগী একটি সিগ্ধান্ত। ক্যারিয়ার হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিং কেমন হবে? কি জানতে হবে? যারা ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার গড়তে চান আজকের এই লেখাটা তাদের জন্য।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে, যেকোনো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল টুলস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে যেকোনো পণ্যের বা সেবার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা করাকে বোঝায়। ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে সকল মার্কেটিং করা হয় তার সবগুলোই ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’ এর অন্তর্ভুক্ত। ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগ করে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সফল করা কিংবা সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে পণ্যের বা সেবার বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর বিদ্যায় হচ্ছে ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’।

ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার বলতে আসলে কী বোঝায়?

ডিজিটাল মার্কেটিং বিশাল একটি সেক্টর। ডিজিটাল মার্কেটিং একক কোনো ক্ষেত্র নয়। বিভিন্ন ডিজিটাল চ্যানেল বা মাধ্যমে কোনো প্রোডাক্ট, সার্ভিস বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা চালান একজন ডিজিটাল মার্কেটার। যেমনঃ

  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ইমেইল
  • সার্চ ইঞ্জিন
  • মোবাইল অ্যাপ স্টোর
  • ইকমার্স প্ল্যাটফর্ম

এখন সবই কিন্তু সব সেক্টরে কাজ করে না। ব্যক্তিগত আগ্রহ, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা আর প্রয়োজনসাপেক্ষে একজন ডিজিটাল মার্কেটার সব ডিজিটাল মাধ্যম বা নির্বাচিত কয়েকটি মাধ্যম নিয়ে কাজ করে নিজের ক্যারিয়ার গড়েন। চাকরি অথবা ফ্রিল্যান্সিং এই দুইভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে আপনার জন্য। তবে আপনি সময় বের করতে পারলে একসাথে দুইভাবেই কাজ করতে পারবেন। সেটা নির্ভর করবে আপনার টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং কাজের দক্ষতার উপর।

আসলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যাপারটা কিন্তু কোন ছোট কোন বিষয় না। এক এক বিজনেসের জন্য এক এক ধরনের মার্কেটিং এর দরকার হয়। আর আপনার যদি সব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকে তাহলে কিন্তু আপনি এই লাইনে ভালো করতে পারবেন না। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে আপনি যাতে সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন তাই MSB Academy-এর বেস্টসেলিং All in One Digital Marketing Masterclass কোর্সটি করে ফেলতে পারেন। এটা কিন্তু একটা কোর্স না, এটা অনেকগুলো কোর্স এর একটা কম্বিনেশন। কারণ আমাদের টার্গেট আপনাকে একজন সফল ডিজিটাল মার্কেটার বানানো। ব্লগিং, SEO, অ্যাফিলিয়েটফেসবুক মার্কেটিংইউটিউবকুপন বিজনেস থেকে শুরু করে ১৪টির বেশি মার্কেটিং সেক্টরে এক্সপার্ট হয়ে যাবেনযার ফলে আপনি যেকোনো বিজনেসে কিংবা মার্কেটার হিসাবে প্রতি ক্ষেত্রে সফলতার মুখ দেখবেন ইনশাল্লাহ।

ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে চাকরি

বর্তমান সময়ে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের সার্ভিস বা পণ্য ডিজিটাল ভাবে মার্কেটিং করার জন্য লোক নিয়োগ করে থাকে। ডিজিটাল মার্কেট সম্পর্কে ভাল অভিজ্ঞ এমন লোকদের অগ্রাধিকার বেশি থাকে। কোনো প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে যোগ দিলে ক্যারিয়ারের ধাপ প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করবে। স্পেশালাইজেশন অনুযায়ীও পদের নাম নির্দিষ্ট হতে পারে। যেমনঃ

  • জুনিয়র ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ
  • সিনিয়র ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ
  • মার্কেটিং ম্যানেজার
  • সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার
  • সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার বা কমিউনিটি ম্যানেজার

ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে অনেক ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার গড়ছে। আপনি চাইলে ফ্রিল্যান্সিং মাধ্যমে কে বেছে নিতে পারেন। কারন বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং এর চাহিদা অনেক এবং এর মাধ্যমে দেশ এবং বাহিরে দুই জাগায় আপনি কাজ করতে পারবেন। তবে এর রয়েছে কিহু সুবিধা ও অসুবিধা। এই ভাবে আপনি যদি ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে আপনকে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে সুবিধাঃ

  • আপনি আপনার সময় মত এবং প্রয়োজন মত কাজ করতে পারবেন। এবং বাচাই করে কাজ করতে পারবেন
  • একাদিক ক্ষেত্র থেকে ইনকাম করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে একাদিক বিষয়ে দক্ষ থাকতে হবে
  • কাজের পোর্টফোলিও সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে
  • স্বাভাবিক কাজের বাইরে গিয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করার সুযোগ থাকে
  • যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিংয়ের বিষয়ে দক্ষ হতে সাহায্য করে
  • নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে এগিয়ে থাকা যায়। যা আপনার কাজকে আরও সহজ করে তুলবে

ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং-এর কিছু অসুবিধাঃ

  • অভিজ্ঞতা না থাকলে শুরুর দিকে কাজ পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যাবে
  • উপার্জন সম্পূর্ণরূপে আপনার যোগাযোগের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, কাজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে
  • প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। সর্বদা দক্ষ ও অভিজ্ঞ মার্কেটারদের সাথে প্রতিযোগিতা করে নতুন কাজের খোঁজ করতে হয়
  • অনেক সময় মার্কেটিং এর সম্পূর্ণ কাজ একা আপনাকে দেখতে হবে সেক্ষেত্রে আপনাকে অনেক বেশি দক্ষ হতে হবে

ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য সেরা কিছু ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম

ফ্রিল্যান্সিং রয়েছে বেশ কিছু প্ল্যাটফর্ম তার মধ্যে অন্যতম হল Fiverr, Freelancer এবং Upwork এই প্ল্যাটফর্মগুলা ছাড়াও আরও অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে তবে এই গুলা বেশি জনপ্রিয়। তবে সফলতা পেতে হলে একটি প্ল্যাটফর্ম এর উপর নির্ভর হবেন না। অভিজ্ঞতা অর্জন এর জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম পোর্টফোলিও গড়ে তোলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন কোন প্ল্যাটফর্ম আপনার জন্য উপযুক্ত।

ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে কী ধরনের কাজ করতে হবে?

অনেকের মনে হয়ত এই প্রশ্নটি থাকে একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসবে কি ধরনের কাজ করতে হয়। কি কাজ জানতে হয়। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান ভেদে হয়ত কাজ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে থাকলে দৈনন্দিন আপনাকে যে কাজগুলো করতে হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর জন্য মার্কেটিং পরিকল্পনা বানানো
  • নিয়মিত প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট আপলোড ও আপডেট করা
  • সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে পোস্ট করা ও ইউজারদের সাথে যোগাযোগ রাখা
  • মার্কেটিং কন্টেন্ট – যেমন, ব্লগ পোস্ট ও গ্রাফিক্স – তৈরিতে সাহায্য করা
  • ইমেইল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালানো
  • মার্কেটিং অ্যানালিটিক্স – যেমন, সোশ্যাল মিডিয়া পারফরম্যান্স – নিয়ে কাজ করা
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসাবে কাজ করা, ইত্যাদি

এই কাজ গুলা ছাড়াও আপনাকে হয়ত আরও কিছু কাজ করা লাগতে পারে তবে সেটা প্রতিষ্ঠান এর উপর নির্ভর করবে। এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে আপনাকে হয়ত ক্লায়েন্টদের সাথে সরাসরি দেখা করতে হবে কথা বলতে হবে। এইটা আসলে নির্ভর করবে আপনি কোন কোম্পানি বা কি ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছেন তার উপর।

ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে কেমন ইনকাম করা যায়?

ইনকাম এই বিষয়টা আমাদের সবার মনে শুরুতে আসে। কেমন ইনকাম হবে। প্রতি মাসে কত টাকা ইনকাম করা যাবে। কত টাকা ইনকাম হবে এইটার সঠিক উপর দেয়া কঠিন। চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ধরন, আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ অনেক কিছুর উপর বেতন নির্ভর করে। শুরুর দিকে হয়ত ১৮ হাজার থেকে শুরু করে ২৫-৩০ হাজার টাকা ইনকাম করা যায়। এইটা হল আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠান এর হয়ে কাজ করেন সে ক্ষেত্রে। আর একজন এক্সপার্ট ডিজিটাল মার্কেটারের বেতন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার উপরে হয়ে থাকে।

আর আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে কাজ করেন সে ক্ষেত্রে ইনকাম নির্ভর করবে আপনার কাজের উপর। আপনি কত সময় কাজ করলেন, কত জন ক্লায়েন্টের কাজ করলেন এবং কি কাজ করলেন সেটার উপর। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে আপনি যত বেশি ক্লায়েন্টের কাজ করতে পারবেন আপনার ইনকাম তত বেশি বাড়বে।

কি ভাবে হবেন একজন সফল ডিজিটাল মার্কেটার?

একটি কথা আছে যে শিখার কোন শেষ নেই। এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও সেইম। চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং যে ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে চান বা মার্কেটার হতে চান না কেন আপনাকে শিখতে হবে এবং সর্বদা শিখার মধ্যে থাকতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটার হিসবে চাকরী করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকার পাশাপাশি মার্কেটিং কিছু বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি দিয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবেন না যদি আপনার মধ্যে মার্কেটিং এর দক্ষতা না থাকে। সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয় আপনাকে জানতে হবে শিখতে হবে, যেমনঃ

  • মার্কেটিং স্ট্রাটেজি প্ল্যান
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং যেমনঃ ফেসবুক মার্কেটিং, ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং
  • মার্কেট অ্যানালিটিক্স ও অডিয়েন্স রিসার্চ
  • ওয়ার্ডপ্রেস ম্যানেজমেন্ট
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • ভিডিও মার্কেটিং
  • SEO বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  • মার্কেটিং অটোমেশন
  • এছাড়াও রয়েছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। বর্তমান সময়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুবই জনপ্রিয়। যেখানে ইনকামের পাশাপাশি পণ্যের মার্কেটিং করে নতুন গ্রাহক খুব সহজে পাওয়া যায় এবং অনলাইন থেকে প্যাসিভ ইনকাম করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।

সবশেষে আপনার জন্য একটি কথা, আসলে ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরটি অনেক বিশাল বড়। অনেকটা খোলা আকাশের মত। এই খোলা আকাশে যদি উড়ে বেড়াতে চান, তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত শিখার মধ্যে থাকতে হবে। আপনার Skills যত বেশি হবে আপনি তত বেশি মার্কেট সম্পর্কে বুঝতে পারবেন তত বেশি সার্ভিস আপনি দিতে পারবেন এবং আপনার ইনকাম সেই হারে দিন দিন বাড়বে। মনে রাখবেন এখন প্রতিযোগিতার সময়। অনেক মেধার সাথে প্রতিযোগিতা করে আপনাকে টিকে থাকতে হবে। আপনার একটি অবস্থান তৈরি করতে হবে। আর তার জন্য আপানকে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখার মধ্যে থাকতে হবে!

Leave a Reply

error: