গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার ও চাকরির সুযোগ

graphic design career and job opportunity bangladesh

গ্রাফিক্স ডিজাইন এই নামটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি সবাই পরিচিতি। কিন্তু অনেকেই হয়ত জানেন না যে এই গ্রাফিক্স ডিজাইন করেও মাসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে বাংলাদেশের অনেক গ্রাফিক্স ডিজাইনারা। আবার অনেকই হয়ত জানে না যে, এই গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং ডিজাইনাররা মূলত কি কাজ করে?! আপনি যদি কোন অফিসে যান অথবা কোন হসপিটাল যান তা হলে দেখবেন আপনি যে মানুষটার সাথে দেখে করতে গেছেন আসার সময় সে আপনাকে একটি কার্ড দিবে। যে কার্ডে তার প্রতিষ্ঠানের লোগো এবং তার সম্পর্কে সব কিছু সুন্দর ভাবে লেখা রয়েছে। অথবা, আপনি যদি রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটেন আপনার চোখে পরবে অনেক রকমের ব্যানার, বিলবোর্ড যেখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন যেখানে রয়েছে বিভিন্ন কালার এবং লেখার মিশ্রণ। এই সুন্দর কাজ গুলাকেই গ্রাফিক্স ডিজাইন বলে আর যারা এই কাজ করে তাদের বলা হয় গ্রাফিক্স ডিজাইনার।

আজাকে আমি আপনাদের বলব এই গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে কি ভাবে আপনি অনলাইন এবং অফলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি?

গ্রাফিক ডিজাইন এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আপনার নিজের আইডিয়া, শিল্প, এবং দক্ষতা, ব্যবহার করে ছবি, শব্দ , এবং ধারণার মিশ্রণ করে একটি আলাদা এবং নতুন ছবি ডিজাইন তৈরি করা। বিভিন্ন Text, pictures এবং ধারণার মিশ্রনের দ্বারা তৈরি হওয়া এই নতুন ডিজাইনটি হলো গ্রাফিক্স। যা কম্পিউটার সফটওয়্যার দ্বারা তৈরি করা হয়। একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন হতে পারে তথ্যবহুল। আরেকটু সাবলীল ভাষায় বলতে গেলে গ্রাফিক্স ডিজাইন হল একটি আর্ট যা কম্পিউটার সফটওয়্যার ও টুলের মাধ্যমে করা হয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রকারভেদ

  • স্থির চিত্র (Still Image Graphics)
  • চলন্ত ছবি (Motion Graphics)

স্থির চিত্র গ্রাফিক্সের ৩টি ধরন আছেঃ

  • রাস্টার ইমেজ (Raster Image) – পিক্সেল বেসিস
  • ভেক্টর ইমেজ (Vector Image) – পিক্সেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট
  • টাইপোগ্রাফি (Typography)

চলন্ত ছবি বা মোশন গ্রাফিক্সের আবার রয়েছে ২টি প্রকারঃ

  • এনিমেশান গ্রাফিক্স (Animation Graphics)
  • ভিডিও গ্রাফিক্স (Video Graphics)

ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইন ~

আপনি যদি ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইনকে বেছে নেন আপনার সামনে রয়েছে অপার কিছু সম্ভাবনা। যেমনঃ

সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র

বর্তমান এই অনলাইন এবং প্রযুক্তির জগতে ভিজুয়্যাল কমিউনিকেশনে দক্ষতা আপনাকে খুলে দিবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। গ্রাফিক্স ডিজাইন অনলাইন জগতের এক বিশাল সম্ভাবনার ভান্ডার এবং এতে অভিজ্ঞ ব্যক্তির চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এমনকি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে গড়ার অন্যতম মাধ্যম গ্রাফিক্স ডিজাইন।

সৃজনশীল পেশা

ডিজাইন হল এক ধরনের সৃজনশীল কাজ। আপনি যদি সৃজনশীল কোন কাজকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান তাহলে গ্রাফিক ডিজাইন হতে পারে আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। এই কাজে আপনি আপনার ভিতরের সৃজনশীলতা কে ভাল ভাবে প্রকাশ করতে পারবেন। আপনার সৃজনশীল চিন্তা শক্তির পুরো প্রয়োগ করে নিজেকে আরও উন্নত করতে পারবেন।

নিজের মত কাজ করার সুবিধা

গ্রাফিক্স ডিজাইনকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়ার আরও একটি অন্যতম কারন হতে পারে নিজের স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ। আমাদের দেশের যে গতানুগতিক অফিসের নিয়ম আপনি পাবেন সে নিয়মের বাহিরে স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ। অর্থনৈতিক ভাবে দেশের অবস্থা খারাপ ভাল যায় হোক না কেন আপনি এ সময়গুলোতে সাধারণ কাজ বা প্রোজেক্টের বাইরে গিয়ে নিজের মতো কাজ করার সুযোগ পাবেন।

সব ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুযোগ

আগেই বলেছি গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার হিসেবে নিলে নিজের স্বাধীন মত কাজ করার একটা সুযোগ রয়েছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের প্রতিষ্ঠানভেদে প্রায় সব ধরণের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুযোগ থাকে। আজকাল ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই কার্যকর ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশনের জন্য গ্রাফিক ডিজাইনারের প্রয়োজন হয়। এই পেশায় তাই বিভিন্ন ধরণের ক্লায়েন্ট ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়।

একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে কি কি প্রয়োজন?

আপনি যদি প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সংকল্প নেন তা হলো আপনাকে এর পেছনে দিতে হবে যথেষ্ট সময়, শ্রম ও ধৈর্য। তার পাশাপাশি কিছু সফটওয়্যার আর টুল সম্পর্কে জানতে হবে। সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি প্রয়োজন তা হল ধৈর্য। আপনাকে অনেক ধৈর্য নিয়ে কাজ শিখতে হবে এবং  ধৈর্যর সাথে এই স্কিল গুলা আপনার মধ্যে আয়ত্ত করতে হবে-

  • কালার প্যালেট সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হবে।
  • ফ্রন্ট সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে।
  • ডিজাইনিং সফটওয়্যার এবং টুলের ব্যবহারে পারদর্শীতা হতে হবে।
  • নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

বেসিক কিছু ডিজাইনিং সফটওয়্যার আর টুল রয়েছে যার ব্যবহার আয়ত্ত করতে কাজের দক্ষতা আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে তার মধ্যে রয়েছে-

  • Adobe Photoshop
  • Adobe Illustrator
  • Adobe Premiere Pro
  • Adobe After Effects

উপরের এই সফটওয়্যার গুলার ব্যবহার যদি সঠিক ভাবে নিজের মধ্যে আয়ত্ত করতে পারেন তাহলে নিজেকে সামনের দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

কি কি কাজ করতে হয় গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের?  

তার আগে জেনে রাখা ভাল যে গ্রাফিক্স ডিজাইনের অনেক সেক্টর। তার মানে এই না যে আপনাকে সব সেক্টর বা ব্যাপার গুলাতে এক সাথে কাজ করতে হবে। তবে কোন এক সময় আপনাকে হয়ত এই কাজ গুলা করতে হতে পারে তাই আগে থেকে জানা থাকা ভাল। এবং এগুলো নিয়ে ধারণা থাকলে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে যেকোন ক্ষেত্রে কাজ শুরু করতে পারবেন। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করতে হলে কি কি ধরনের কাজ জানতে বা করতে হতে পারে তার একটা ধারনা নিচে দেয়া হলঃ

  • টি-শার্ট এবং জামা কাপড়ের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • ডিজিটাল গ্রাফিক্স (digital graphics) ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন (digital advertisement) তৈরি
  • ওয়েব ডিজাইনিং (web designing) ও মোবাইল অ্যাপ ডিজাইন
  • ব্লগসাইটের জন্য কভার বা ইমেজ ডিজাইন
  • সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য বিভিন্ন গ্রাফিক ডিজাইন
  • ফটো এডিটিং / রিটাচিং
  • কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের লোগো তৈরি
  • বই, অ্যালবাম, ম্যাগাজিনের কভার ডিজাইন
  • সাইনবোড, বিলবোর্ড, ব্যানার বিজ্ঞাপন (banner advertisement) তৈরি
  • প্রিন্ট অ্যাড (print advertisement) ডিজাইন
  • পণ্যের মোড়ক (packaging) ডিজাইন
  • টিভি নিউজ বা প্রোগ্রাম চলাকালীন গ্রাফিক্স ও টাইটেল ডিজাইন
  • কার্ড, ব্রোশিয়র (brochure), ইনফোগ্রাফিক্স (infographics) ডিজাইন
  • ভিজিটিং কার্ড, Employee কার্ড ডিজাইন
  • Flayer ডিজাইন
  • ইত্যাদি আর অনেক অনেক টাইপের কাজ আছে!!!

আর একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক ডিজাইনার হতে চাইলে আপনার এইসব ব্যাপারে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। আর তাই এই সবকিছু মাথায় রেখে আমরা আপনাদের জন্য তৈরি করেছি কমপ্লিট গ্রাফিক ডিজাইন কোর্স। যেখানে গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য সফটওয়্যার ইন্সটল দেয়া থেকে শুরু করে, স্টেপ-বাই-স্টেপ প্রজেক্ট ভিত্তিক অসংখ্য প্রজেক্ট করে দেখানো হয়েছে। যা প্র্যাকটিস করার মাধ্যমে যেকেও নিজেকে এক্সপার্ট গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে নিজেকে যোগ্য হিসাবে গড়ে তুলতে পারবে। কোর্সের লিঙ্ক চেক করুন, কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্যঃ https://www.msbacademy.com/course/graphic-design-mastery

এছাড়া কোর্সে এনরোল করা প্রত্যেক স্টুডেন্টদের জন্য থাকবে এই প্রাইভেট ফেসবুক গ্রুপ। যেখানে ডিজাইন সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যার সমধান স্টুডেন্টরা ইন্সট্রাকটরের কাছ থেকে পাবে। যা নতুনদের গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে হেল্প করবে।

বর্তমান চাকরির বাজারে গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ে আয়ের সুযোগ

যেহেতু এখন প্রযুক্তির সময়। প্রযুক্তির এই সময়ে সব কিছুতে একটা বিশাল পরিবর্তন চলে এসে সেই সাথে প্রতিষ্ঠান গুলার মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপনে চলে এসে কিছুটা পরিবর্তন। বর্তমান এই ডিজিটাল যুগে প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই নিয়োগ পাচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইনে পারদর্শী ব্যক্তি। দেশি-বিদেশী সংস্থার ইন-হাউস গ্রাফিক ডিজাইনার ছাড়াও কাজের সুযোগ আছে – অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি, ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি, প্রিন্টিং হাউজ, ব্র্যান্ড এজেন্সি, বই ও ম্যাগাজিন-পত্রিকার পাবলিশিং হাউস, মাল্টিমিডিয়া কোম্পানি, টেলিভিশন ও ব্রডকাস্টিং কোম্পানি ও প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি সহ নানান ক্ষেত্রে।

ইনকামের পরিমাণ

কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে মার্কেটপ্লেসগুলোতে পারিশ্রমিকের পরিমাণ কমবেশি হয়ে থাকে। যে কাজগুলো কম সময়ে ও কম পরিশ্রমে করা যায়, যেমন ব্যানার ও ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন এই ধরনের কাজের জন্য সাধারণত ১২ থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে থাকেন। মাঝারি ধরনের কাজের জন্য ১৫ থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত নির্ধারণ করে থাকেন। আর বড় প্রজেক্টের জন্য ৩০ থেকে ৫০ হাজার বা তার বেশিও পাওয়া সম্ভব।

তবে ক্রমান্বয়ে চাকরির পদোন্নতির সাথে সাথে আয়ের সুযোগও বাড়তে থাকে। তবে সেজন্য আগে ১০-১২ বছরের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হয়। আপনি যত বেশি অভিজ্ঞ হবেন আপনার ইনকাম তত বেশি বাড়বে।

পরিশেষে একটি কথা

বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বীতার বাজারে একটি পেশায় টিকে থাকলে হলে নিজেকে সবার থেকে আলাদা কিছু দিতে হবে। এবং নিজের সৃজনশীলতাকে সবার সামনে সেই ভাবেই প্রকাশ করতে হবে। তবে প্রযুক্তির এই সময়ে সৃজনশক্তির অধিকারী ব্যাক্তিরা এক্ষেত্রে স্বভাবতই একধাপ এগিয়ে থাকবেন।

এসব বিষয় বিবেচনা করে আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার গড়ার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য রইল শুভকামনা।

Leave a Reply

error: