নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কেন থাকা জরুরী?

Why portfolio website is necessary

সময়ের পরিবর্তনে সাথে সাথে প্রযুক্তিতে এসেছে পরিবর্তন আর তার সাথে পরিবর্তন হয়েছে আমাদের জীবন যাত্রার। প্রযুক্তির এই আগ্রতির ফলে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং প্রফেশনাল লাইফ অনেকটাই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছে। আর বর্তমানে আমরা এমন একটি যুগে বসবাস করছি আপনি যদি সময়ের সাথে সাথে নিজেকে আপডেট না করেন তাহলে শুধু পিছিয়ে যাবেন না ধীরে ধীরে আপনি সময়ের আবর্তনে বিলীন হয়ে যাবেন।

আজকে আমরা যে বিষয় নিয়ে কথা বলব সেটা হল নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট। কেন আপনার নিজের একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট থাকা প্রয়োজন। পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কি ভাবে আপনাকে অন্য সবার থেকে আলাদা ভাবে পরিচিতি করে তুলবে, কি কি থাকবে আপনার এই নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে, এবং কি ভাবে খুব সহজেই তৈরি করবেন নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট এই সব বিষয়ে আজ কথা বলব।

পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কি?

আপনি কোনও দোকানে গেলেন একটি শাড়ি কেনার জন্য। গিয়ে দেখলেন সেখানে কোনও শাড়ি নেই। শুধু পুরুষদের পোশাক। কিন্তু বিক্রেতারা আপনাকে বলছে তারা খুব চমৎকার এবং আরামদায়ক শাড়ি বিক্রি করে আসছে অনেকদিন ধরে। আকস্মিকভাবে বললো তাদের কিছু টাকা দিয়ে আসতে এবং দুইদিন পরে যেয়ে শাড়ি নিয়ে আসতে। আপনি তখন কি মনে করবেন তাকে? তার কথা বিশ্বাস করবেন?

উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই না। নিশ্চয়ই তাকে পাগল মনে করবেন। কারণ স্যাম্পল না দেখে অবশ্যই আপনি বোকার মত টাকা দেবেন না। তাদের বিশ্বাস করবেন না।

অনলাইন পোর্টফলিও ব্যাপারটাও তেমনি। আপনি যতই কাজ করেন, সেসবের কোনও ডকুমেন্টেশন বা ভিজ্যুয়াল রেপ্রিজেন্টেশন না থাকলে কেউ আপনার কথা বিশ্বাস করবেনা। পোর্টফোলিও আপনার প্রফেশনাল জ্ঞান, দক্ষতা, গুণাবলি ও অর্জন উপস্থাপনের একটি উপায়। এর মাধ্যমে আগ্রহী যে কেউ আপনার কর্মজীবন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন।

কেন নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করবেন?

বর্তমান বাজারে শুধু চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করলেই হবে না, বরং এর প্রচার করতে হবে। আর নিজের প্রচার ও প্রসারের জন্য ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে নিজের একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট হচ্ছে অন্যতম সেরা উপায়। কেন নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তার কিছু বিশেষ কারন তুলে ধরা হলোঃ

নতুন যুগের আধুনিক রেজুমিঃ 

পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট আধুনিক রেজুমি। একসময় যখন নিজের সিভি সব সময় আপডেট রাখতে বলা হত। কোন কোম্পানিতে চাকরী জন্য আবেদন করতে গেলে আপডেট সিভি চাওয়া হত ঠিক এখন নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট আপডেট চাই। তাই নিজের অভিজ্ঞতা, সাফল্য সব কিছু একটু সময় নিয়ে নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে আপডেট করে রাখলে আপনি বাকি চাকরি প্রার্থীদের থেকে ১ ধাপ এগিয়ে থাকবেন।

নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে আপনার দক্ষতা ও কাজের মার্কেটিং করুন-

নিজের একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট থাকলে আপনি একদিকে যেমন আপনার দক্ষতা প্রকাশ করতে পারবেন তার পাশাপাশি সেটার মার্কেটিং করতে পারবেন।মনে করুন আপনি খুব সুন্দর ছবি তুলতে পারেন আপনি একজন ফটোগ্রাফার। গ্রামের মনোরম দৃশ্য অসাধারণভাবে তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু আপনার সেই ছবি গুলো ঐ ক্যামেরাবন্দি হয়েই রয়েছে। প্রচারের অভাবে তেমন প্রসারও হলো না। কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না যে ছবি বিক্রি করেও টাকা ইনকাম করা যায়। আপনি যদি আপনার তুলা কিছু ছবির সেম্পল আপনার ওয়েবসাইটে দিয়ে রাখেন টা হলে এক দিকে যেমন আপনার মার্কেটিং হচ্ছে অন্য দিকে কেউ হয় আপনাকে ফটোগ্রাফার হিসেবে হায়ার করতে পারে।

আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার হলে আপনার ডিজাইন করা ডেমো সাইট গুলো তুলে ধরতে পারেন। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলে ডিজাইন গুলো সাজিয়ে রাখতে পারেন। একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কতটা জরুরী!

পোর্টফোলিও সাইটে কি কি রাখা উচিৎ?

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে আপনার পোর্টফোলিও সাইটে কি কি রাখা উচিৎ। সেক্ষেত্রে আমি আপনাকে একটা ধারনা দিতে পারি আপনি কি কি রাখবেন। কিন্তু আপনাকে আগেই বলে রাখি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কিন্তু আপনার নিজের ওয়েবসাইট সুতরাং আপনি আপনার নিজের দক্ষতা এবং সাফল্য আপনার সাইটে তুলে ধরবেন এবং সে অনুযায়ী সাজাবেন।

লোগো: একটি সুন্দর লোগো ব্যাবহার করতে পারেন। একটি ছোট্ট সুন্দর লোগো অবশ্যই ভিজিটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এবং যা আপনার নিজের ব্র্যান্ড কে সবার মাঝে তুলে ধরবে।

পরিচিতি: খুব সংক্ষিপ্ত করে আপনার ব্যাপারে লিখতে পারেন। যেন মানুষ আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করে আপনার সম্পর্কে ক্লিয়ার এবং সুন্দর একটি ধারনা পায়।

ট্যাগ লাইন: আপনার স্কিলকে উপস্থাপন করে এমন ছোট্ট কিন্তু আকর্ষণীয় ট্যাগ লাইন ব্যাবহার করতে পারেন।

সার্ভিস: কোন কোন কাজে আপনি দক্ষ, অভিজ্ঞতা আছে সেগুলো অল্প সংক্ষেপে গুচিয়ে লিখতে পারেন।

পোর্টফোলিও: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে আপনার সকল কাজের স্যাম্পল রাখবেন। যে কাজ গুলি আপনি ভাল পারেন শুধু সেই কাজের স্যাম্পল রাখবেন। সেটা ছবি অথবা ভিডিও আকারে রাখতে পারেন। যাতে করে আপনার কাজ সম্পর্কে মানুষ ধারনা পায়।

ব্লগ: আপনি যে বিষয়ে কাজ করেন সে বিষয়ে লেখালেখি করতে পারেন। এবং আপনার পোর্টফোলিও ওয়রেবসাইটে সেই ব্লগটি উপস্থাপন করতে পারেন।

কন্টাক্ট: আপনার সাথে কিভাবে যোগাযোগ করবে সেই তথ্যগুলো এখানে থাকবে। যেমন- আপনার মেইল আইডি, ফোন নাম্বার। যেন আপনার কাজ বা অভিজ্ঞতা দেখে মানুষ আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। আর আপনি যদি চান অন্যের কাজ করে দিতে বা আপনার কাজ দেখে কেউ আপনাকে হায়ার করুক সে ক্ষেত্রে হায়ার মি এর অপশনটি যোগ করে দিতে পারেন।

কীভাবে তৈরি করবেন নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট?

আশা করি উপরের লেখা পড়ে একটা ধারনা পেয়েছেন কেন আপনার একটি নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট থাকা প্রয়োজন। এবং কি ভাবে নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট সাজাবেন। এখন জেনে নেয়া যাক কি ভাবে তৈরি করবেন নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট। রিসোর্স রয়েছে একটি ওয়েব সাইট তৈরি করার জন্য। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস, উইক্স, Weebly ইত্যাদি। আবার আপনি চাইলে CSS, HTML কোডিং ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

কিন্তু আপনি যদি কোডিং এর ঝামেলায় নিজেকে জড়াতে না চান তা হলে আপনার জন্য রয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস। Yes, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে খুব সহজে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় তৈরি করে ফেলতে পারেন আপনার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট। অসংখ্য ফ্রী এবং পেইড প্লাগিন রয়েছে যেগুলো দিয়ে প্রায় যা চান তাই করতে পারবেন। আর এই ব্যাপারে কমপ্লিট গাইডলাইন পেতে করতে পারেন আমাদের এই WordPress কোর্সটি। কোর্সটি করে পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট ছাড়াও অন্যান্য যেকোনো ধরনের সাইটই কোন রকম কোডিং ছাড়াই বানিয়ে ফেলতে পারবেন। এছাড়া কোর্সের সাথে দেয়া হবে ১৫০০ ডলার মূল্যের প্রিমিয়াম থিম এবং প্লাগিনের লাইফটাইম লাইসেন্স। যা আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্টে বিশেষভাবে হেল্প করবে।

সবশেষে একটি কথা, প্রফেশন অনুযায়ী পোর্টফোলিও সাইট বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তবে বর্তমান এই অনলাইন এবং প্রযুক্তির যুগে ভালো কাজ পেতে এবং নিজস্ব ব্র্যান্ডিং এর জন্যে একটি পোর্টফোলিও সাইট খুবই সহায়ক।

Comments

Leave a Reply

error: