প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার জন্য ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

গ্রাফিক্স ডিজাইন এই নামটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিতি। কারন বর্তমান সময়ে আপনি যে সেক্টরেই যাবেন এই গ্রাফিক্স ডিজাইনের ছোঁয়া দেখতে পারবেন। আপনার মানিব্যাগ এর মধ্যে আপনার সহ আরও যাদের ভিজিটিং কার্ড রয়েছে এই সব কিছু এই গ্রাফিক্স ডিজাইনে মাধ্যমে করা হয়। অফলাইন এবং অনলাইন দুই সেক্টরেই তাই গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

গ্রাফিক্স ডিজাইন এমন একটি আর্ট যা কম্পিউটারের মাধ্যমে সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্যবহুল নকশা অংকন করার সুযোগ করে দেয়। আর যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন করেন বা গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজটি সম্পাদনা করেন তাদের গ্রাফিক ডিজাইনার বলে। গ্রাফিক্স ডিজাইন বিশাল একটি সেক্টর এই সেক্টরে আপনি যত বেশি প্রফেশনাল হবেন আপনার চাহিদা থাকবে তত বেশি। গ্রাফিক্স ডিজাইন এ প্রফেশনাল হতে হলে আপনাকে জানতে হবে বিশেষ কিছু কৌশল যা আপনার কাজকে প্রফেশনাল লুক দিতে সাহায্য করবে।

আমার এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের গ্রাফিক্স ডিজাইনের তেমন ১৩টি কার্যকারী টিপস দিব যা আপনাকে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে আরও প্রফেশনাল করে তুলবে।

১) মিনিমাল ডিজাইন

নতুন ডিজাইনারদের জন্য যে ব্যাপারটা বেশি প্রব্লেম হয় তা হলো খুব জটিল ডিজাইন করা। যতটা পারা যায় ডিজাইন সিম্পল এবং মিনিমালিস্ট রাখার চেস্টা করা। যাতে গ্রাহকদের বুঝতে কোন প্রব্লেম না হয়। একচুয়ালি কি বুঝানো হচ্ছে এই ডিজাইন দ্বারা সেটা ইনশিউর করতে হবে। টাইপোগ্রাফি এবং কালার নুন্যতম ব্যাবহার করতে হবে। এবং একি সাথে ডিজাইন চোখ ধাঁধান হতে হবে। তাহলে এই ধরনের ডিজাইন গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

২) মাস্টার ডিজাইন প্রোগ্রাম

গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য ব্যবহারযোগ্য সফটওয়্যার গুলো কি কি, তা সম্পর্কে আপনার জানতে হবে যেমনঃ Adobe Illustrator, Adobe InDesign, Adobe Photoshop, and Sketch. গ্রাফিক ডিজাইনের প্রফেশনাল কাজের জন্য উক্ত সফটওয়্যার গুলো খুবই জনপ্রিয়। আর এই জনপ্রিয় সফটওয়্যার গুলোর যে কোন একটি কে আপনি ভাল ভাবে আয়ত্ত করতে পারলে আপনি আপনার ডিজাইনের ক্যারিয়ার ভাল ভাবেই লিড করতে পারবেন। তবে নলেজ গ্রহন করার তো আর শেষ নেই। আপনি অন্যান্য সফটওয়্যার এর উপর ও আপনার স্কিল ভাল ভাবে বিল্ড করতে পারেন।

৩) ডিজাইনের প্রিন্সিপাল গুলো জানতে হবে

গ্রাফিক ডিজাইন হচ্ছে ভিজুয়াল কমিউনিকেশন সফটওয়্যার। যার মাধ্যমে গ্রাফিকালি কালার, টাইপোগ্রাফি, এবং ইলাস্ট্রেশন এর মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করা হয়ে থাকে।  এবং সেখানে একটা ক্লিয়ার মেসেজ থাকবে (সেটা যে কোন বিষয়ে হতে পারে)। ডিজাইনের ক্ষেত্রে কিছু মূলনীতি রয়েছে যা ডিজাইনার কে ফলো করে কাজ করতে হবেঃ

  •  Hierarchy
  •  Alignment
  •  Contrast
  •  Space
  •  Color
  •  Proximity
  •  Repetition
  •  Balance 

একটি আদর্শ ডিজাইন করার জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলো আপনাকে প্রথমে আয়ত্ত করতে হবে। এবং এর সাথে কালার এবং টাইপোগ্রাফির দিকে অনেক বেশি জোড় দিতে হবে।

৪) ভাল মানের কালার প্যালেট ব্যাবহার করুন

কালার প্যালেট এবং ভাল কালার স্খিম এর ব্যাবহার জানলেই আপনি আপনার ডিজাইন কে অন্য লেভেলে নিয়ে যেতে পারবেন। এবং ভাল কালার স্খিম ব্যবহার এর মাধ্যমে আপনি গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ ইউজারদের ডেলিভারি করতে পারবেন। নিম্নে কিছু কালার প্যালেট এর জনপ্রিয় লিঙ্ক শেয়ার করা হলঃ

  • Colorhunt
  • Colorhex
  • Adobe.color
  • Material.io/resources/color
  • Coolors
  • Paletton.com
  • Khroma.co
  • Htmlcolorcodes.com

৫) টাইপোগ্রাফি এর সঠিক ব্যাবহার

ডিজাইনারদের জন্য ফন্ট নির্বাচন করা খুবই গুরুত্তপূর্ণ বিষয়। ফন্ট এর ব্যাবহার ভালভাবে করতে পারা এক প্রকার আর্ট। যা আপনার আয়ত্তে থাকলে আপনি কমপ্লেক্স ব্যাপারটাও সহজে উপস্থাপন করতে পারবেন। আপনি যদি কোন এক্সপার্টদের জিজ্ঞাসা করেন আপনি কি ধরনের ফন্ট ব্যাবহার করেন তাহলে দেখবেন তারা আপনাকে বলবে আমরা অল্প কিছু সংখ্যক ফন্ট আমাদের ডিজাইনে ব্যাবহার করে থাকি।

কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এত হাজার হাজার ফন্ট এর মাঝে অল্প ফন্ট কেন ব্যাবহার করছেন তারা। এর উত্তর হল তারা উক্ত ফন্ট এর সৌন্দর্য বুঝতে পেরেছে ব্যবহার এর মাধ্যমে। তাই আপনার উচিত হবে অনেক ফন্ট ব্যাবহার করে প্র্যাক্টিস করার মাধ্যমে সেই যোগ্যতা তৈরি করা। তাহলে আপনি নিজেও অনেক ভাল মানের টাইপোগ্রাফি ডিজাইন বানাতে সক্ষম হবেন।

৬) ডিজাইনে Hierarchy এর দিকে নজর রাখতে হবে

একটি ডিজাইনে উপড় থেকে নিচ পর্যন্ত প্রত্যকটি উপাদানের সঠিক স্তর নির্ধারণ করাই Hierarchy… যেমন, আপনার ডিজাইনের হেডিং এমন ভাবে লেখা যা দেখে পুরো ডিজাইনে কি থাকতে পারে তা ইউজার সহজে বুঝতে পারে। এবং এক সাথে পরবর্তী যত টাইটেল এবং সাব টাইটেল একি সাইজ এবং একি ধরনের ফন্ট ব্যাবহার করে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে আপনার ডিজাইনের সমাপ্ত ঘটানো। এবং প্রত্যেক পারাগ্রাফের ক্ষেত্রেও একি নিয়ম বজায় রাখা।

আপনার যদি ৩ টি পারাগ্রাফ হয় পুরো ডিজাইনে তাহলে ৩টির কালার , ফন্ট, সেপ এর ব্যাবহার একি থাকতে হবে। আমরা এক কথায় এই বিষয়টা বুঝতে আপ্রি এভাবে যে একটি ডিজাইনে ভিজুয়ালি প্রত্যক উপাদানের ব্যালেন্স রাখতে হবে।

৭) Readability – পঠনযুক্ত হতে হবে

 আপনার ডিজাইনে ছোট বা বড় যে টেক্সট-ই ব্যাবহার করেন না কেন, তা যেন  রিডার সহজে রিড করতে পারে। তাই রিড এবিলিটি অনেক গ্রুরুত্তপূর্ণ। টেক্সট এর কারনিং, লিডিং, ব্যালেন্স সব ঠিক ঠাক না থাকলে আপনার ডিজাইন কখন ও আইডিয়াল হবে না বা মারকেটপ্লেস উপযোগী হবে না। তাই চাইলে একটি ভাল মানের কোর্স করে নিতে পারেন। আর আমাদের MSB Academy কোয়ালিটি কোর্স প্রভাইড করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। চাইলে চেক আউট করে ফেলতে পারেন। লিঙ্কঃ

৮) স্পেসিং এর সঠিক ব্যাবহার

 কিছু ডিজাইন আপনি দেখবেন যেখানে অনলি একটি মাত্র টেক্সট সেই ডিজাইনটি তুলনামুলক ভাল দেখায় একটি কমপ্লেক্স বা হিউজ উপাদান ব্যাবহার করা ডিজাইনের থেকে। তার মানে এখানে স্পেসিং এর সঠিক ব্যাবহার ঘটেছে বলে বিবেচনা করা যায়। তাই আপনাকে প্রচুর নেগেটিভ স্পেস ব্যাবহার করা ডিজাইন রিসার্চ করতে হবে।

এবং সেই অনুযায়ী আপনাকে নিজে থেকে ডিজাইন ম্যাক করতে হবে তাহলে এই বিষয়টি খুব সহজে আপনি আয়ত্ত করতে পারবেন। গুগ্ল এ গিয়ে নেগেটিভ স্পেস ডিজাইন লিখে সার্চ করতে পারেন অনেক উদাহরন পেয়ে যাবেন।

৯) কালার এবং টাইপোগ্রাফি Psychology

Psychology নিয়ে প্রত্যক মানুষ পরিচালিত যেমন হয়ে থাকে। তেমন আপনি যে বিষয় নিয়েই কাজ করেন না কেন, সেই বিষয়ের সাইকোলজি ভাল ভাবে জানতে হবে এটা আবশ্যক। তবেই আপনি একটি ডিজাইনের সৌন্দর্য, সময় এবং কাল ভেদে উপস্থাপন করতে পারবেন। তাই কাজ করার পূর্বে গুগল এ গিয়ে লিখে সার্চ করবেন টাইপোগ্রাফি এবং কালার এর সাইকোলজি তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ডিজাইন এর কালার ঠিক নির্বাচন করছেন বা কালার নির্বাচন করছেন কি না।  

১০) ডিজাইনারদের সাথে নেটওয়ার্ক ও রিলেশন বিল্ডআপ করা

আপনার নলেজ কে তাদের সাথে শেয়ার করা এবং তাদের ডিজাইন দেখে আইডিয়া নিয়ে নিজের মত করে কাজ করা। তাতে একটা সময় আপনার ডিজাইনের হাত খুব ভাল হবে এবং সেই সাথে অনেক Opportunity তৈরি হবে। আর এই কাজ টি আপনি অনলাইন অথবা অফ লাইনে মিটআপ করে করতে পারেন।

১১) ভাল মানের একটি কোর্স আপনাকে খুজে নিতে হবে

আপনার ডিজাইন এর প্রতি ঝোঁক থাকতেই পারে। কিন্তু এটি সহজতর বিষয় নয়। এই বিষয়ে ভাল দক্ষতা অর্জন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই একটি সঠিক গাইডলাইনের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। তার জন্য আপনার একটি কোর্স বেছে নেওয়া বাধ্যতা মূলক। তবে ফ্রি রিসোর্স থেকে আপনি আপনার যাত্রা শুরু করতেই পারেন এক সময় গভীর নলেজ অর্জনের জন্য আপনাকে কোন একটি যায়গায় শরণাপন্ন হতেই হবে। তাই যেহুতু কাজ টি আপনাকে পরেই করতে হচ্ছে। তাহলে সেটি পূর্বে করতে পারলে কিন্তু বিষয়টা আপনার জন্য সহজতর হয়। এবং আপনার ভিতর কনফিডেন্স জাগ্রত হবে বলে আমি মনে করছি।

 কিছু অনলাইন ফ্রি গ্রাফিক ডিজাইন শিখার রিসোর্স শেয়ার করা হলঃ

  • General Assembly
  • Skillshare
  • LinkedIn Learning (formerly Lynda.com)
  • Udemy
  • Coursera

তবে আমি আপনাকে বলব কোন ভাল মানের একাডেমী থেকে পেইড কোর্স করার জন্য। ফ্রি কোর্সে আপনি বেসিক শিখতে পারবেন কিন্তু পেইড কোর্সে আপনি একজনের গাইড লাইনের পাশাপাশি অ্যাডভান্স সব কিছু পায়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে আপনি এম এসবি একাডেমীর Graphic Design Mastery With Freelancing & Microstock কোর্সটি করতে পারেন।

১২) অনেক বেশি প্র্যাক্টিস করুন

Practice Makes a Man Perfect বলে একটি কথা আছে। আপনি যখন গ্রাফিক ডিজাইনের আপনার পছন্দের সফটওয়্যার এর কাজ শিখে ফেলবেন। তখন আপনার সেগুলো কে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে আপনার প্র্যাক্টিস এর মাধ্যমে। মিনিমাম ৫০ ডিজাইন কপি করুন একটি ক্যটাগরির উপর।তারপর আপনি নিজের মত করে ইউনিক আরো কিছু ডিজাইন ম্যাক করুন।  আপনার এতে অনেক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। তারপর আপনি আপনার পছন্দের অন্য ক্যটাগরিতে যেতে পারেন। এবং একি নিয়মে প্র্যাক্টিস চালু রাখুন।

১৩) সমালোচনা গ্রহন করুন

অনেকেই প্রথম অবস্থায় আপনাকে নিয়ে হাসা হাসি করতে পারে। ডিজাইনে ভুল ধরতে পারে। তাই তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাবে না। মনে রাখবেন একজন মানুষ সমালোচনা ছাড়া আলোচিত হতে পারে না। আর আপনি আপনার ডিজাইনের দুনিয়ায় আলোচিত তখনই হবেন যখন সমালোচনা আপনাকে ঘিরে ধরবে। এবং তখন আপনার প্রত্যয় হবে আমাকে এই সেক্টরে কিছু করতেই হবে।তাই আপনি আপনার মত এগিয়ে যান। ইনশাহ আল্লাহ সফল হবেন।

আমরা জানি নতুনরা গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার ক্ষেত্রে কোন কোন জায়গায় সমস্যা ফেইস করে, কোন জায়গায় গুরুত্ব বেশি দিতে হয় এবং কিভাবে আসলে প্র্যাকটিস করা দরকার! তাই আপনি আমাদের Adobe Photoshop and Illustrator এর কম্বিনেশনে তৈরি কমপ্লিট গ্রাফিক ডিজাইন কোর্সটি ভালোভাবে কমপ্লিট করার মাধ্যমে নিজেকে এই সেক্টরে এক্সপার্ট হিসাবে গড়ে তুলতে পারবেন ইনশাল্লাহ। ফ্রিল্যান্সিং এবং ৮টিরও বেশি Microstock সাইট থেকে প্যাসিভ ইনকাম করার গাইডলাইন সহ ১৫০০ ডলার সমমূল্যের ডিজাইন রিসোর্স এই কোর্সে দেয়া হবে। কোর্স লিঙ্ক চেক করুন, আরও বিস্তারিত জানার জন্যঃ https://www.msbacademy.com/course/graphic-design-mastery

এছাড়া কোর্সে এনরোল করা প্রত্যেক স্টুডেন্টদের জন্য থাকবে এই প্রাইভেট ফেসবুক গ্রুপ। যেখানে ডিজাইন সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যার সমধান স্টুডেন্টরা ইন্সট্রাকটরের কাছ থেকে পাবে। যা নতুনদের গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে হেল্প করবে।

পরিশেষে একটি কথাই বলবো আপনি আপনার ডিজাইনের জগতে পা দিলে খুদ্র খুদ্র বিষয় গুলো রিসার্চ করবেন এবং তা আপনার বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করবেন। তাহলে আপনি আপনার টার্গেট এচিভ করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্‌। চেষ্টা, কৌশল, বুদ্ধির সাহায্যে দক্ষতা অর্জন করে যে কেউ এই পেশায় সফলতা পেতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার গড়ার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য রইল শুভকামনা।

Leave a Reply

error: