fbpx

Print on Demand (POD) কি? কিভাবে শুরু করবেন সাকসেসফুল প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস?

Print-on-Demand Business Bangla

প্যাসিভ ইনকাম হলো এমন একটি আয়ের ব্যবস্থা যেখানে টাকা আয় করতে গেলে আপনাকে সবসময় সেই কাজের পিছনে লেগে থাকতে হবে না। একবার কাজ করে রাখবেন আর সেই কাজের জন্য প্রতি মাসে আপনার ব্যাংকে টাকা বা ডলার ঢুকতে থাকবে! সেটাকেই মূলত প্যাসিভ ইনকাম বলা হয়। আর বর্তমান সময়ে প্যাসিভ ইনকামের জনপ্রিয় মাধ্যম হল প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস। প্রিন্ট অন ডিমান্ড নামটি শুনে বুঝতে পারছেন যে এখানে ডিমান্ড অনুযায়ী কোন কিছু প্রিন্ট করে দিতে হবে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে ভালো ডিজাইনার এবং মার্কেটাররা প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে। যদি ক্রিয়েটিভ আইডিয়া, কর্ম দক্ষতা ও কিছু টিপস জানা থাকে তাহলে আপনিও এই পেশাকে ফুল-টাইম প্রফেশন হিসেবে নিতে পারেন। আজকের এই আর্টিকেলে প্রিন্ট অন ডিমান্ড কি এবং কীভাবে এই বিজনেসটি সফলভাবে শুরু করা যায় সেই ব্যাপারে বিস্তারিত একটা গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করব। আশা করি নতুনদের জন্য আজকের লিখাটা বেশ হেল্পফুল হবে।

প্রিন্ট অন ডিমান্ড কি?

Print on Demand কে সংক্ষেপে POD বলা হয়ে থাকে। বিভিন্ন পণ্য যেমন টি-শার্ট, মগ, বই, ক্যানভাস ইত্যাদি এর উপর প্রোডাক্ট ডিজাইন করে বিভিন্ন প্রিন্ট অন ডিমান্ড মার্কেটপ্লেস গুলোতে সেল করাকেই বলে প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস। আপনি শুধুমাত্র ডিজানই করে প্রোডাক্টটি সাইটে একটা প্রাইস সেট করে অ্যাড করে রাখবেন, আর কোন কাস্টমারের অর্ডার করলে আপনি যেই মার্কেটে কাজ করবেন তারাই আপনার হয়ে প্রোডাক্টটি প্রিন্ট করে শিপ করে দিবে প্রোডাক্টটি কাস্টমারের কাছে। প্রোডাক্ট তৈরির খরচ বাদ দিয়ে বাকি যা থাকবে সেটাই হবে আপনার প্রফিট। এর মানে আপনার কাজ হচ্ছে শুধুমাত্র ভালো ভালো ডিজাইন করা এবং মার্কেটিং করে সেল করা। ফুলফিলমেন্টের অন্য সব কাজ মার্কেটপ্লেস আপনার হয়ে করে দিবে। এখানে আপনার লস হওয়ার কিছুই নেই। কারণ এই POD প্লাটফর্মগুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করা সম্পূর্ণ ফ্রি আর আপনার করা ডিজাইন সেল হওয়ার পরই সেটা মূলত প্রিন্টিংয়ে যাবে। আর এই বিজনেস মডেলটা এত সহজ হওয়ার জন্যই মূলত বিশ্বব্যাপী এই বিজনেসটা বর্তমানে এত বেশি জনপ্রিয়।

জনপ্রিয় প্রিন্ট অন ডিমান্ড প্ল্যাটফর্ম সমূহ 

প্রিন্ট অন ডিমান্ড প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে মার্চ-বাই-অ্যামাজন। কারণ Merch by Amazon (MBA) এই প্লাটফর্মের সাহায্যে আমরা আমাদের আপলোড করা প্রোডাক্ট সরাসরি অ্যামাজনে তা সেল করতে পারি। আর অ্যামাজনে যেহেতু অরগানিক ট্রাফিক অনেক তাই সঠিক Keyword Research অ্যান্ড Competition Analysis করে কাজ করলে প্রচুর অরগানিক সেল পাওয়া যায়। মার্চ বাই অ্যামাজনে আপনি নতুন অবস্থায় কাজ শুরু করতে চাইলে আপনার মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে পারে, তাই আপনি নতুন হলে Merch By Amazon বিজনেসের কিছু কমন প্রশ্ন এবং উত্তর এই ব্লগটি পড়ে ফেলতে পারেন।

আর অ্যামাজন ছাড়াও কিন্তু পপুলার অনেক প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাইট আছে। এক এক প্লাটফর্মের সুযোগ সুবিধা হয়ত এক এক রকম কিন্তু ঘুরে ফিরে সবার মেইন বিজনেস মডেলটা একই। ভালো ডিজাইন আপলোড দিবেন, কেও অর্ডার করলেই আপনার প্রফিট হবে। তাহলে চলুন জেনে নেই ওয়ার্ল্ডের কিছু পপুলার Print-on-Demand প্লাটফর্মগুলো নামঃ

  • TeeSpring
  • Redbubble
  • ViralStyle
  • Printful
  • Printify
  • Threadless
  • T-Pop
  • SPOD
  • Apliiq Dropship.
  • Teelaunch
  • CustomCat
  • Printbase

আপনি উপরের প্ল্যাটফর্মগুলা ভিজিট করলে বুঝতে পাবেন প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস কতটা পপুলার এবং লাভজনক বিজনেস। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে আপনি আপনার ডিজাইনগুলো একাধিক প্লাটফর্মে আপলোড করলে একাধিক প্লাটফর্ম থেকেই ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। এর মানে ভালো ডিজাইন আপনার নিজের করা থাকলে একাধিক সাইট থেকে ইনকাম করা আপনার জন্য কোন ব্যাপারই হবে না। অনেকে আবার Print on Demand বিজনেসের সাথে Dropshipping বিজনেসের তুলনা করে। কিন্তু ২টা বিজনেস মডেল কিন্তু বলা যায় সম্পূর্ণ আলাদা। এ বিষয়ে আপনি যদি আরও ভাল ভাবে জানতে চান তাহলে প্রিন্ট অন ডিমান্ড Vs ড্রপশিপিং – কোনটা করা বেশি লাভজনক? এই ব্লগটি পড়তে পারেন। যেখানে প্রিন্ট অন ডিমান্ড কেন বেশি লাভজনক এবং রিস্ক ফ্রি বিজনেস সেই ব্যাপারে আরও পরিষ্কার একটা ধারণা পাবেন।

কিভাবে শুরু করবেন প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস?

পরিকল্পনা বিহীন কোন কাজে সফলতা আসে না। কোন কাজে সফল হতে হলে তার একটি সুন্দর পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় এবং সেই কাজ সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা থাকতে হয়। প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস শুরু করার আগে আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রতিটা কাজের একটি নিয়ম রয়েছে। আর সফল ভাবে কোন কাজ করতে গেলে বা সে কাজে সফল হতে গেলে আগে আপনাকে সেই কাজের প্রসেস সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানতে হবে। প্রিন্ট অন ডিমান্ড কে যখন আপনি আপনার প্রফেশন হিসেবে নিবেন তখন এর সম্পূর্ণ পক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ A TO Z গাইডলাইন নিয়ে আমাদের এম এসবি একাডেমীতে রয়েছে অসাধারণ একটা প্রিন্ট অন ডিমান্ডের উপর অনলাইন কোর্স। কোর্সে জয়েন করা প্রায় 2400+ স্টুডেন্ট এই কোর্সটি করে বেশ সফলভাবে POD সাইটগুলো থেকে প্যাসিভ ইনকাম করছে। তাই এই বিজনেসে আপনি সিরিয়াস হয়ে থাকলে জয়েন করে ফেলতে পারেন কোর্সটিতে। বেশি ভাগ মানুষ না বুঝেই শুরু করে এই বিজনেস, আর মাঝ পথে এসে আর সফল হতে পারে না। তাই আমি এই বিজনেস শুরু করার দরকারি স্টেপগুলো আপনাদের বলে দিচ্ছি, যা ফলো করার মাধ্যমে আপনি চাইলে এই বিজনেসটা নিজেই শুরু করে দিতে পারবেন।

১) প্রফিটেবল নিশ বা টপিক সিলেক্ট করা

নিশ হলো একটি গাছের শিকড়ের ন্যায় দৃঢ। যে গাছের শিকড় যতো বেশি শক্ত, সেই গাছ ততো বেশি মজবুত। ঠিক তেমনি নিশ হলো, একটি কাজের শিকড়। আপনি এই শিকড়কে যতো বেশি শক্ত করতে পারবেন তত দ্রুত কাজে আপনার সফলতা আসবে। প্রিন্ট অন ডিমান্ড নিয়ে কাজ করতে গেলে আপনাকে প্রথমেই যে জিনিসটি মাথায় রাখতে হবে তা হল নিশ বা টপিক। আপনি যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন সেটি যেন অবশ্যই প্রফিটেবল হয়। আমরা অনেকই এই জাগায় ভুল করে থাকি। মার্কেট নিয়ে কোন রিসার্চ না করেই ডিজাইন আপলোড করা শুরু করে দেই। আসলে ডিজাইন বুঝে না বুঝে আপলোড করলেই ইনকাম শুরু হয়ে যাবে না। তাই আপনার একটি প্রফিটেবল নিশ আগে সিলেক্ট করতে হবে, আর তারপর সেই নিশের উপর ভিত্তি করে ভালো ভালো ডিজাইন আপলোড করতে হবে। সেই কাজ না করে যদি Random ডিজাইন আপলোড করেন তাহলে দিন শেষ কিন্তু ফলাফল আসবে শূন্য।  

২) প্রডাক্ট রিসার্চ করা

যে কোন কাজে আপনার রিসার্চ করার দক্ষতা যত বেশি থাকবে সে কাজে তত দ্রুত সফল হতে পারবেন। প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর ক্ষেত্রে ঠিক তাই। আপনি যখন আপনার নিশ বা টপিক ঠিক করবেন তার পর আপনার কাজ হবে আপনার সিলেক্ট কৃত নিশ বা টপিক গুলার মধ্যে কোন প্রোডাক্ট গুলা বেশি জনপ্রিয় সেই প্রোডাক্টগুলা নিয়ে কাজ করা। আপনি চাইলে Trending Product নিয়ে কাজ করতে পারেন, জেগুলা সিজনাল। মানে বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে অনেক চাহিদা থাকে। আবার চাইলে Evergreen প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন, জেগুলা মোটামুটি সারা বছরই কম-বেশি সেল হয়। এইখানে আবার বিভিন্ন প্রোডাক্ট টাইপও আছে। যেমন চাইলে আপনি টিশার্ট সেল করতে পারেন নির্দিষ্ট কোন ডিজাইনের, আবার চাইলে ফোন কভারও সেল করতে পারেন। আপনি যদি প্রিন্ট অন ডিমান্ড বেষ্টসেলিং প্রোডাক্ট লিখে গুগলে সার্চ দিন তাহলে দেখবেন সেখানে সবচেয়ে বেশি সেল হয় টিশার্ট। টিশার্ট ছাড়াও আরও অনেক ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট আপনি চাইলে সেল করতে পারেন। যেমনঃ 

  • Mugs
  • All-over print hoodie
  • All-over print yoga pants
  • Engraved jewelry
  • Posters
  • Champion jacket
  • Tote bags
  • Fanny packs
  • Phone Cases
  • Face Musk

৩) মার্কেটের টপ ডিজাইনারদের ডিজাইন গুলো দেখা

ভাল ভাবে কাজ শুরু করার আগে প্রিন্ট অন ডিমান্ড প্লাটফর্মগুলোতে যারা ভাল টপ ডিজাইনার রয়েছে তাদের ডিজাইনগুলা আপনি ফলো করতে পারেন। কোন ডিজাইনগুলো বেশি সেল হচ্ছে? তাদের ডিজাইনের কোয়ালিটি দেখতে কেমন? কোন ডিজাইনগুলো ৫ স্টার রিভিউ পেল? কি টাইটেল দিল? সেইসব দেখার মাধ্যমে আপনি নিজের মধ্যে একটা ভালো ধারণা গ্রো করতে। কিছুদিন এইভাবে রিসার্চ করলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কীভাবে ডিজাইন করে, কীভাবে প্রোডাক্ট লিস্ট করলে বেশি সেল জেনারেট করা সম্ভব। এছাড়াও ডিজাইন আইডিয়া নেয়ার জন্য কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে সেখান থেকেও ডিজাইন আইডিয়া নিতে পারেন। প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর ডিজাইন আইডিয়া নেয়ার জন্য বেষ্ট একটি সাইট হচ্ছে Pinterest। যেখানে আপনি আপনার নিশ রিলেটেড Keyword লিখে সার্চ করলেই হাজার হাজার ডিজাইন আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

৪) মানসম্পন্ন কোয়ালিটি ডিজাইন তৈরি করা

আপনি যখন আপনার নিশ সিলেক্ট করে প্রোডাক্ট রিসার্চ করে, মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবেন, তখন আপনার কাজ হবে ভালো ডিজাইন করে আপলোড করা। ডিজাইন তৈরি সময় মাথায় রাখতে হবে সেটা যেন ইউনিক ডিজাইন হয়। আপনার যখন Photoshop অ্যান্ড  illustrator সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকবে তখন আপনি নিজে নিজে ডিজাইন করতে পারবেন। সাথে ডিজাইন এর প্রতিটা টুলস এর ব্যবহার যখন আপনি ভাব ভাবে ইউস করতে পারবেন, তখন আপনার জন্য নতুন ও ইউনিক ডিজাইন করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। শুরুতে আপনাকে অনেক ডিজাইন তৈরি করতে হবে এবং সেগুলা সঠিক নিয়মে একটি নিদিষ্ট প্রাইস দিয়ে আপলোড করতে হবে। যখন আপনার অ্যাকাউন্ট অনেক ডিজাইন হয়ে যাবে তখনই আপনার প্যাসিভ ইনকাম শুরু হয়ে যাবে।

তবে আপনি যদি প্রিন্ট অন ডিমান্ডের 1 থেকে 10 পর্যন্ত প্রোডাক্ট লিস্ট একটু লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পারবেন টিশার্ট ডিজাইন সব সময় প্রথম অবস্থে রয়েছে। আপনি যদি প্রফেশনাল ভাবে শুধু মাত্র টিশার্ট ভাল ভাবে করতে পারেন তাহলেও আপনি ভাল প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন। একজন প্রফেশনাল টিশার্ট ডিজাইন শিখে প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস শুরু করতে চাইলে আপনি MSB Academy-এর বেস্টসেলিং Basic To Advanced T-Shirt Design Masterclass In Bangla এই কোর্সটি করতে পারেন । টিশার্ট ডিজাইনের সব কিছু A to Z শিখানোর পাশাপাশি সাথে পাবেন ৭০০+ ডলার মূল্যের প্রিমিয়াম ডিজাইন রিসোর্স এবং ফেইসবুক প্রাইভেট গ্রুপে লাইফ টাইম সাপোর্ট এর ব্যবস্থা। আপনি যদি টিশার্ট ডিজাইন ভাল ভাবে শিখতে পারেন তাহলে টিশার্ট ডিজাইনারদের ফ্রীলান্সিং, প্রিন্ট-অন-ডিমান্ডের বিভিন্ন প্লাটফর্ম, Microstock সাইটগুলোতে প্যাসিভ ইনকামের সুযোগ ছাড়াও ফ্যাশন ডিজাইন সেক্টরে প্রচুর Job Opportunity রয়েছে। 

৫) ট্রেন্ড ফলো করা এবং কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল ব্যবহার করা

যেকোন বিজনেসের জন্য মার্কেট ট্রেন্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন সময়ে মার্কেটে কোন প্রোডাক্টের চাহিদা বেশি সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। আপনি যদি মার্কেট এর ট্রেন্ড বুঝে ডিজাইন তৈরি করতে পারবেন তাহলে অন্য সবার থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকবেন এবং আপনার সেল অনেক গুন বেড়ে যাবে। যেকোন ডিজাইন করার ক্ষেত্রে যদি এমন ডিজাইন করা যায় যে, ওই সময়ে মার্কেটের ট্রেন্ডিং-এ রয়েছে সেই বিষয়টি, তাহলে সেখান থেকে ভাল একটা প্রফিট করে ফেলা যায় সহজেই। বিভিন্ন ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান, হলিডে রয়েছে, আন্তরজাতিক যে দিবস গুলা রয়েছে এই সময় মানুষ এই দিবসকে টার্গেট করে সেই রিলেটেড প্রোডাক্ট বেশি অডার করে থাকে। তাই এই দিসবগুলা টার্গেট করে যারা কাজ করে, সবার সেইসময়টায় তুলনামূলক অন্য সময় থেকে আইটেম বেশি সেল হয়। Google Trends টুলটি ব্যাবহার করে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে কখন বা বছরের কোন সময়ে কোন জিনিসের ট্রেন্ড বেশি থাকে।

কীওয়ার্ড রিসার্চ হলো এক ধরণের গবেষণা বা অনুসন্ধান যার মাধ্যমে আপনি আপনার টার্গেট কাস্টমার কে খুঁজে বের করবেন। অর্থাৎ, আপনার প্রোডাক্ট এর মার্কেটিং করার জন্য যখন আপনি কাস্টমার কে বিচার বিশ্লেষণ করে টার্গেট কীওয়ার্ড খুঁজে বের করেন তখন তাকে কীওয়ার্ড রিসার্চ বলে। এসইও এর প্রথম পদক্ষেপই হলো কীওয়ার্ড রিসার্চ। অর্থাৎ আপনার প্রোডাক্ট মানুষ কি কি নামে বিভিন্ন সার্চইঞ্জিনে সার্চ দিলে পাবে সেটা ঠিক ভাবে দিতে হবে। এবং মানুষ প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর প্রোডাক্ট এর গুলা কি নামে বেশি সার্চ করে সেটাও আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। সঠিক কীওয়ার্ড সিলেক্ট করে আপনার প্রোডাক্ট এর অ্যাড দিতে পারেন তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার প্রোডাক্ট মানুষ সহজে পাবেন আর এতে আপনার সেল অনেক গুন বেড়ে যাবে। Evergreen কোন নিশ নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনার সঠিক কিওয়ার্ড রিসার্চ এবং কম্পিটিশন এনালাইসিস করে কাজ করা খুবই জরুরি।

৬) সঠিক উপায়ে প্রোডাক্ট মার্কেটিং করা

মার্কেটিং বলতে পণ্য বা প্রোডাক্টের বিক্রি করাকে বুঝায় না। মার্কেটিং হল অনলাইন বা অফলাইনের মাধ্যমে ব্যান্ডিং, এডভার্টাইজিং এবং প্রমোশন করে পণ্য বা প্রডাক্টকে জনসাধারণের মাঝে প্রচার বা প্রসার করা। অর্থাৎ মার্কেটিংয়ের কাজ হল জনসাধারণের মাঝে প্রোডাক্ট এর বিষয়ে জানানো. আপনি যত ভাল কাজই করেন না কেন, সেটি যদি আপনি মার্কেটিং না করে নিজের কাছে রাখেন তাহলে সেখান থেকে কোন টাকা আসবে না। আপনার প্রোডাক্ট যত ভাল হোক না কেন সেটা যদি মানুষের কাছে প্রচার না করতে পাবেন তা হলে সেখান থেকে কোন Massive Success আসবে না।

প্রিন্ট অন ডিমান্ড প্লাটফর্মে সঠিক Keyword Research and Competition Analysis করে ভালো ডিজাইন আপলোড করলে কম বেশি সেল আসবে সেটা ঠিক কিন্তু সফলভাবে এই বিজনেসটাকে রান করতে আপনার অবশ্যই মার্কেটিং করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে আমি ফ্রি মার্কেটিং অ্যান্ড পেইড মার্কেটিং চাইলে উভয়ভাবেই মার্কেটিং করতে পারেন। ফ্রি মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে রেজাল্ট একটু দেরিতে আসে, আর পেইড মার্কেটিং সঠিকভাবে করতে পারলে ফাস্ট রেজাল্ট দেখা যায়। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমন, ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম এই সকল জাগায় মার্কেটিং করতে পারেন। পেইড মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হল ফেসবুক অ্যাড। তবে শুরুতে যদি আপনার বাজেট কম থাকে তাহলে আপনি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম আইডি থেকে মার্কেটিং করতে পারেন। মনে রাখতে হবে প্রচারেই প্রসার। তাই প্রচার খুবই ভাল ভাবে করতে হবে।

আশা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পরে বুঝতে পেরেছেন যে, প্রিন্ট অন ডিমান্ড হল বর্তমান সময়ে প্যাসিভ ইনকামের সবচেয়ে বেষ্ট মাধ্যমে এবং দিন দিন চাহিদা এবং মার্কেট সাইজ বেড়েই যাচ্ছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে এবং উপরে যে বিষয় গুলি আলোচনা করা হয়েছে এই সব কিছুর কম্বিনেশনে MSB Academy-তে পাবলিশ করা হয়েছে প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর একটি পূর্ণাঙ্গ কোর্স। Merch by Amazon, Teespring, Redbubble এবং ViralStyle এর মতো জনপ্রিয় প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাইটগুলতে ক্রিয়েটিভ টিশার্ট ডিজাইন সেল করে কীভাবে প্রতিদিন ১০,০০০ টাকা প্যাসিভলি ইনকাম করতে পারবেন তার প্রুভেন ফর্মুলা পাবেন কোর্সটিতে। কোর্সে একবার জয়েন করলেই পাবেন Lifetime Access + কোর্সের ফোরামে লাইফ টাইম সাপোর্ট + ভবিষ্যতের সব আপডেট সম্পূর্ণ ফ্রিতে। তাই আপনি এই বিজনেসে সিরিয়াস হয়ে থাকলে নির্দ্বিধায় জয়েন করতে পারেন কোর্সটিতে। প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেসের উপর এইরকম রিসোর্সফুল কোর্স আপনি অনলাইনে অথবা অফলাইনে কোথাও খুঁজে পাবেন না।

সবশেষে আপনি যদি প্রিন্ট অন ডিমান্ড শুরু করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য শুভ কামনা। আর যদি না শুরু করে থাকেন তাহলে সময় নষ্ট না করে এখনি শুরু করে দিন। আর গাইডলাইন এবং সাপোর্ট এর জন্য MSB Academy-এর প্রিন্ট অন ডিমান্ড কোর্সটিতে জয়েন করুন। 

Comments

  • azmir haq
    azmir haq
    July 31, 2022

    অসাধারন লেখা। আমি নিয়মিত পড়ি আপনাদের ব্লগ। অনেক কিছু শিখতে পারি ব্লগ পড়ে।

Leave a Reply

error: Alert: Content selection is disabled!!